পদার্থের গঠন ৩য় অধ্যায় (রসায়ন) SSC (Structure of Matter)

আমাদের এই লেখায় পাবেন পদার্থের গঠন ৩য় অধ্যায় (রসায়ন) SSC! পদার্থ (Matter) আমাদের চারপাশে সর্বত্র বিদ্যমান — বাতাস, জল, ধাতু, এমনকি আমাদের শরীরও পদার্থ দিয়ে গঠিত। কিন্তু আপনি কি জানেন, এই পদার্থ আসলে কী দিয়ে তৈরি? আজকের আলোচনায় আমরা জানব পদার্থের গঠন, তার উপাদান, পরমাণু ও অণুর রহস্য, এবং মৌলের পরিচয়। ৯ম ও ১০ম এর শিক্ষার্থীদের জন্য পদার্থের গঠন ৩য় অধ্যায় (রসায়ন) SSC উপস্থাপন করা হয়েছে।

🧪 মৌলিক ও যৌগিক পদার্থ: পদার্থের মূল শ্রেণিবিন্যাস

পদার্থকে সাধারণভাবে দুটি ভাগে ভাগ করা যায় — মৌলিক পদার্থ ও যৌগিক পদার্থ।

🌟 মৌলিক পদার্থ (Element)

যে পদার্থকে রাসায়নিকভাবে ভেঙে দিলে আর কোনো নতুন পদার্থ পাওয়া যায় না, তাকে মৌলিক পদার্থ বলা হয়।
উদাহরণ: হাইড্রোজেন (H), অক্সিজেন (O), লোহা (Fe), সোনা (Au) ইত্যাদি।
এ পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা ১১৮টি মৌলিক পদার্থ আবিষ্কার করেছেন।

💧 যৌগিক পদার্থ (Compound)

যখন দুই বা ততোধিক মৌল নির্দিষ্ট অনুপাতে রাসায়নিকভাবে যুক্ত হয়, তখন তৈরি হয় যৌগিক পদার্থ।
উদাহরণ: জল (H₂O) হলো হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের যৌগ।
যৌগিক পদার্থের ধর্ম সবসময় এর উপাদান মৌলগুলোর থেকে আলাদা হয়।

⚛️ পরমাণু ও অণু: ক্ষুদ্র জগতের নায়ক

🔹 পরমাণু (Atom)

মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা যা পদার্থের ধর্ম বজায় রাখে।
পরমাণু রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশ নেয়, কিন্তু সাধারণত একা থাকতে পারে না (নিষ্ক্রিয় গ্যাস ছাড়া)।

🔹 অণু (Molecule)

দুই বা ততোধিক পরমাণু রাসায়নিক বন্ধনে যুক্ত হয়ে যে কণিকা তৈরি করে, তাকে অণু বলা হয়।
অণু হলো পদার্থের ক্ষুদ্রতম অংশ যা স্বতন্ত্রভাবে অস্তিত্ব বজায় রাখতে পারে।
উদাহরণ: জল (H₂O), অক্সিজেন (O₂), কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂)।

তালাকের মাসআলা 2025

🔤 মৌলের প্রতীক ও যৌগের সংকেত

বিজ্ঞানে মৌল ও যৌগ চিহ্নিত করার জন্য বিশেষ প্রতীক ব্যবহৃত হয়।

✅ মৌলের প্রতীক (Symbol)

মৌলের ইংরেজি বা ল্যাটিন নামের সংক্ষিপ্ত রূপ।

প্রথম অক্ষর বড় হাতের এবং প্রয়োজনে দ্বিতীয় অক্ষর ছোট হাতের লেখা হয়।
যেমন:

হাইড্রোজেন → H

অক্সিজেন → O

ক্যালসিয়াম → Ca

সোডিয়াম (Natrium) → Na

✅ যৌগের সংকেত (Formula)

যৌগে কোন কোন মৌলের কতটি পরমাণু আছে তা বোঝায়।
উদাহরণ: H₂O → দুটি হাইড্রোজেন ও একটি অক্সিজেন পরমাণু।

⚙️ পরমাণুর মৌলিক কণিকা: ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন

একটি পরমাণু তিনটি প্রধান কণিকা দ্বারা গঠিত — ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন।

মৌলিক কণিকা প্রতীক আধান (চার্জ) আপেক্ষিক আধান ভর (গ্রাম) আপেক্ষিক ভর

ইলেকট্রন e⁻ -1.60×10⁻¹⁹ C -1 9.11×10⁻²⁸ প্রায় 0
প্রোটন p⁺ +1.60×10⁻¹⁹ C +1 1.673×10⁻²⁴ 1
নিউট্রন n⁰ 0 0 1.675×10⁻²⁴ 1

🔸 ইলেকট্রন — ঋণাত্মক আধানযুক্ত এবং নিউক্লিয়াসকে কেন্দ্র করে ঘূর্ণায়মান।
🔸 প্রোটন — ধনাত্মক আধানযুক্ত এবং নিউক্লিয়াসে অবস্থান করে।
🔸 নিউট্রন — নিরপেক্ষ কণিকা, নিউক্লিয়াসে অবস্থান করে এবং প্রোটনের ভরের সমান প্রায়।

Learn Genz Paragraph

🔢 পারমাণবিক সংখ্যা ও ভর সংখ্যা

🔹 পারমাণবিক সংখ্যা (Atomic Number – Z)

কোনো মৌলের নিউক্লিয়াসে থাকা প্রোটন সংখ্যাই হলো পারমাণবিক সংখ্যা।
একটি নিরপেক্ষ পরমাণুতে প্রোটন ও ইলেকট্রন সংখ্যা সমান।
👉 উদাহরণ: সোডিয়াম (Na)-এর পারমাণবিক সংখ্যা ১১ → এর প্রোটন সংখ্যা = ১১।

🔹 ভর সংখ্যা (Mass Number – A)

পরমাণুর প্রোটন ও নিউট্রন সংখ্যার যোগফল হলো ভর সংখ্যা।
সূত্র:

A = Z + N
(ভর সংখ্যা = প্রোটন সংখ্যা + নিউট্রন সংখ্যা)

👉 উদাহরণ: সোডিয়াম (Na)-এর প্রোটন = ১১, নিউট্রন = ১২ →
ভর সংখ্যা = ১১ + ১২ = ২৩

এভাবে সোডিয়ামকে প্রকাশ করা যায়:
₂₃₁₁Na

🌍 কেন “পদার্থের গঠন” জানা জরুরি?

“পদার্থের গঠন” বোঝা মানে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের মূল কাঠামো বোঝা। এটি রসায়নের মেরুদণ্ড — কারণ প্রতিটি রাসায়নিক বিক্রিয়া, পদার্থের ধর্ম, এমনকি জীববিজ্ঞানের মৌলিক ক্রিয়াকলাপও এর ওপর নির্ভর করে।

FAQ About পদার্থের গঠন ৩য় অধ্যায় (রসায়ন) SSC

১. প্রশ্ন: পদার্থ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: যেসব বস্তুর ভর আছে এবং স্থান দখল করে, তাকে পদার্থ বলা হয়। যেমন—বায়ু, পানি, লোহা, কাঠ ইত্যাদি।

২. প্রশ্ন: পদার্থের প্রধান তিনটি অবস্থা কী?
উত্তর: কঠিন (Solid), তরল (Liquid) এবং বায়বীয় (Gas)।

৩. প্রশ্ন: পদার্থ কী দিয়ে গঠিত?
উত্তর: পদার্থ ক্ষুদ্রতম কণা পরমাণু দিয়ে গঠিত। একই বা ভিন্ন পরমাণুর সংযোগে অণু গঠন হয় এবং বহু অণু মিলে পদার্থ তৈরি হয়।

৪. প্রশ্ন: পরমাণু কী?
উত্তর: পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা যা রাসায়নিক ক্রিয়ায় অংশ নেয় এবং অপরাপর কণার মতো নিজেকে আরও ক্ষুদ্র ভাগে বিভক্ত করা যায় না।

৫. প্রশ্ন: অণু কী?
উত্তর: ২ বা তার বেশি পরমাণু রাসায়নিক বন্ধনে যুক্ত হয়ে অণু তৈরি করে। যেমন—H₂O (পানি), O₂ (অক্সিজেন), CO₂ (কার্বন-ডাই-অক্সাইড)।

৬. প্রশ্ন: কঠিন, তরল ও বায়বীয় অবস্থায় কণাগুলোর বিন্যাস কেমন থাকে?
✅ কঠিনে কণাগুলো খুব কাছাকাছি ও সুশৃঙ্খল
✅ তরলে কণাগুলো একটু ঢিলেঢালা
✅ গ্যাসে কণাগুলো অনেক দূরে ও স্বাধীনভাবে চলে

৭. প্রশ্ন: পদার্থের গঠনে ঘনত্ব কেন ভিন্ন হয়?
উত্তর: কণার সংখ্যা, কণার আয়তন এবং কণাগুলোর ব্যবধান ভেদে ঘনত্ব পরিবর্তিত হয়।

৮. প্রশ্ন: কেন কঠিন পদার্থের আকার নির্দিষ্ট থাকে?
উত্তর: কঠিনে কণাগুলো শক্তভাবে বাঁধা ও সুশৃঙ্খল, তাই এদের নির্দিষ্ট আকার থাকে।

৯. প্রশ্ন: কেন গ্যাসের আকার ও আয়তন নির্দিষ্ট নয়?
উত্তর: কারণ গ্যাসীয় কণাগুলো দূরে দূরে অবস্থান করে এবং খুব দ্রুত গতিতে চলতে পারে, ফলে যেকোনো পাত্রের আকার অনুযায়ী ছড়িয়ে পড়ে।

১০. প্রশ্ন: তাপ বা তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে পদার্থের অবস্থা পরিবর্তন কেন হয়?
উত্তর: তাপ দিলে কণাগুলোর গতি বৃদ্ধি পায় ও দূরত্ব বাড়ে, ফলে কঠিন → তরল এবং তরল → গ্যাসে রূপান্তর হয়।

📚 উপসংহার

পদার্থের গঠন সম্পর্কিত এই ধারণাগুলো কেবল পাঠ্যপুস্তক নয়, বাস্তব জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। আমরা প্রতিদিন যে বাতাসে নিঃশ্বাস নেই, যে জল পান করি, যে ধাতু ব্যবহার করি — সবকিছুই পরমাণু ও অণুর জটিল সমন্বয়।
তাই বলা যায়, “পদার্থের গঠন” বোঝা মানে বিজ্ঞানের হৃদয়ে প্রবেশ করা। ৯ম ও ১০ম এর শিক্ষার্থীদের জন্য পদার্থের গঠন ৩য় অধ্যায় (রসায়ন) SSC উপস্থাপন করা হয়েছে।

Leave a Comment